শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্বের ওপর ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করে রাজনীতি করতে চান, তাদের অনেকবার বলা হয়েছে—একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা একাত্তরের চেতনা বিক্রি করতে করতে দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন।
তিনি বলেন, আমাদের রাজনীতির নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্তের নতুন রাজনীতির কথা বললেও পুরোনো বন্দোবস্তের ধারাতেই রাজনীতি করছেন। তাদের সংশোধন হওয়া দরকার। রাজনীতিতে বাল্যশিক্ষা শ্রেণির ছাত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকের মতো আচরণ করা ঠিক নয়। শিখতে হবে, অনেক দূর যেতে হবে। রাজনৈতিক মাঠ অনেক কঠিন, বন্ধুর ও কণ্টকাকীর্ণ পথ। এত সহজ নয়।
শেখ হাসিনা ও ভারত প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আপনারা শেখ হাসিনা কার্ড খেলবেন আর বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইবেন, দুটো বিপরীতমুখী। আশা করি ভারত সরকার বিষয়টি বুঝবে। দিল্লিতে বসে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে এবং এ দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য শেখ হাসিনা যে বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন, সে অভিযোগ আমাদের রয়েছে। ভারতের দ্বিমুখী অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে শপথ নেওয়ার পরই বিরোধী দলের নেতাদের কাছে ছুটে গিয়েছেন। আমরা কখনো কারও নামে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিতে চাইনি, দিইও না। বিতর্ক হবে, গণতান্ত্রিক বিতর্ক হবে। আমরা তো রাজনৈতিক সংস্কৃতি পাল্টাতে চেয়েছি।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন জেলায় গিয়ে যেসব উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে, যারা এসব করছে তারা আমার কচি বন্ধু। তারা প্রাথমিক পর্যায়ের রাজনীতির ছাত্র, তাই তাদের ভুল হতে পারে।
আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংগঠন হিসেবে আমরা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিচারের কথা বলছি। তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হবে আদালতে। আর্টিকেল ৪৭ অনুসারে আইন করা হয়েছে। আইসিটি অ্যাক্টেও এ বিষয়ে বিধান রয়েছে। সংগঠনটির কার্যক্রম আইন অনুযায়ী নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি না, তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো রাজনৈতিক শাস্তি হবে কি না, দীর্ঘ সময়ের জন্য বা অল্প সময়ের জন্য কার্যক্রম স্থগিত হবে কি না, এসব বিষয়ে আইনে বিধান রাখা হয়েছে। তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হবে কি না, সেটিও আইনে বলা আছে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা আশা করি খুব শিগগিরই সেই তদন্ত শেষ করতে পারব। ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের বিচার চলমান। কিছু বিচার শেষ হয়েছে। আরও অনেকগুলোর ক্ষেত্রে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হবে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে যে স্পাতকঠিন ঐক্য তৈরি হয়েছিল, সেটি ধরে রাখতে হবে। সেই ঐক্যকে শক্তিতে পরিণত করে সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে বিতর্ক হবে, তর্ক হবে, বহুমত থাকবে। তবে তর্ক-বিতর্ক, দ্বিমত প্রকাশ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আমাদের পূর্ণভাবে বজায় রাখতে হবে।