রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের নিকুছড়ি সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়েছেন লাকি সিং (২৪) নামে এক নারী। দুর্ঘটনাটি নিকুছড়ি সীমান্তের ৪১ ও ৪২ নম্বর পিলারের মাঝামাঝি অবস্থানে, বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৪০০ মিটার ভেতরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকা বর্তমানে মিয়ানমারের বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র দখলে থাকা অংজান ক্যাম্পের নিয়ন্ত্রণাধীন। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে আরাকান আর্মির পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণেই এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত লাকি সিং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের গাছ বুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে তিনি বাঁশ কোরল কুড়াতে সীমান্ত পেরিয়ে মিয়ানমারে প্রবেশ করেছিলেন। স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী জানান, “আমি বিষয়টি জেনেছি। গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষ জীবিকার জন্য প্রায়শই মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গিয়ে বাঁশ ও কাঠ সংগ্রহ করেন। তবে গত দেড় বছরে অনুপ্রবেশের সময় অন্তত ২৭ জন সীমান্তে পুঁতে রাখা মাইন বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। সীমান্তজুড়ে চলমান সশস্ত্র সংঘাত, আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণ ও বিস্ফোরক ফাঁদের কারণে ওই এলাকার মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে।
এ অবস্থায় সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার, অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থানীয়দের বিকল্প জীবিকার সুযোগ তৈরির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।