ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের নিরাপত্তা এবং নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. গোলাম রাব্বানী জানিয়েছেন, ভোটের দিন কেন্দ্রগুলোতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি)-এর ২০০-এর বেশি সদস্য প্রথম স্তরে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি প্রক্টরিয়াল বডির শিক্ষক সদস্যরাও নিরাপত্তায় থাকবে।
দ্বিতীয় স্তরে ভোট কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। তৃতীয় স্তরে ৭টি প্রবেশমুখে সেনাবাহিনী স্থাপন করা হয়েছে। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ৫ মিনিটের মধ্যে স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে সেনা সদস্যরা কেন্দ্রে প্রবেশ করবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরও ফলাফল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রগুলো নিরাপত্তা বেষ্টনিতে থাকবে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটের দিন বৈধ ভোটার ছাড়া কোনো শিক্ষার্থী বা অন্য কেউ ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে পারবে না। এছাড়া ভোটের আগের দিন এবং ভোটের দিন (৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর) ঢাবি মেট্রো স্টেশনও বন্ধ থাকবে।
অন্য রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম আরও উল্লেখ করেছেন, প্রার্থীরা মুক্তিযুদ্ধ ও চব্বিশের শহিদদের অবমাননা করে কোনো প্রচারণা চালাতে পারবেন না।
প্রচার–প্রচারণা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ২৬ আগস্ট থেকে। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণার পর থেকে নিয়ম অনুযায়ী প্রচারণা করা যাবে। চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সাদা-কালো পোস্টার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল ব্যবহার করা যাবে, তবে এতে কেবল প্রার্থীর নিজস্ব ছবি থাকতে হবে। ক্যাম্পাস ও হল এলাকায় দেয়াল, গাছ, যানবাহন বা অন্যান্য স্থাপনায় কোনো প্রচারণামূলক লিখন বা ছবি ব্যবহার করা যাবে না।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো প্রার্থী বা তার সমর্থকরা প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রচারণামূলক সামগ্রী ধ্বংস বা অবৈধভাবে লিখন করতে পারবে না। কালি, চুন বা অন্যান্য কেমিক্যাল ব্যবহার করে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণা করা যাবে না।
২৬ আগস্ট থেকে ৭ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা পর্যন্ত ব্যক্তি বা সংগঠন পরিচয়ে প্রচারণা চালানো যাবে। তবে সামাজিক, আর্থিক বা সেবামূলক সহযোগিতা, মজলিশ-মাহফিল আয়োজন বা ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও প্রাঙ্গণে প্রচারণা করা নিষিদ্ধ।