মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) প্রকাশিত সুপ্রিম পিপলস অ্যাসেম্বলিতে দেওয়া ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রর বিরুদ্ধে আগ্রাসন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে মদদের অভিযোগ তোলেন। বক্তব্যে ইরানের নাম সরাসরি না এলেও প্রসঙ্গটি স্পষ্ট ছিল।
কিম বলেন, বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতা প্রমাণ করেছে—চাপ বা কূটনৈতিক আশ্বাসে প্রভাবিত না হয়ে পারমাণবিক শক্তি অটুট রাখাই ছিল সঠিক পদক্ষেপ। তার ভাষায়, উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক অবস্থান এখন স্থায়ী ও অনড়।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তাৎক্ষণিক ঝুঁকি হয়ে উঠেছিল। তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, তেহরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে থামানোই সামরিক পদক্ষেপের বড় কারণ।
পিয়ংইয়ংয়ের দৃষ্টিতে ইরান সংঘাত পুরোনো এক ধারণাকে জোরালো করেছে—যেসব দেশের পারমাণবিক প্রতিরোধ নেই, তারা সামরিক চাপে বেশি দুর্বল; আর পারমাণবিক সক্ষমতা থাকলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সহজ হয়।
সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। ট্রাম্প সম্প্রতি আবার কিমের সঙ্গে আলোচনায় বসার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক বক্তব্যে কিম স্পষ্ট করেছেন, ভবিষ্যৎ সংলাপ আগের ধারায় নাও এগোতে পারে। আগে যেখানে নিরস্ত্রীকরণ ছিল মূল বিষয়, এখন সেখানে ভিন্ন সমীকরণ আসতে পারে।
সম্ভাব্য বৈঠকে উত্তর কোরিয়া নিজেকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি তুলতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, দেশটি ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি করেছে। তাদের দাবি, কার্যকর অস্ত্রভাণ্ডার ও দূরপাল্লার ডেলিভারি সক্ষমতা রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
সূত্র: সিএনএন