প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে পাঠানো চিঠিতে সাবেক অধিনায়করা গত সপ্তাহের একটি ঘটনার উল্লেখ করেন। তারা জানান, ইমরান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে কয়েক ঘণ্টা রাখা হয়। পরে রাষ্ট্রীয়ভাবে গঠিত মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে।
ইমরানের চিকিৎসা ও পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ নিয়ে চিঠিতে তিনটি দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রথমটিতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী নতুন একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের কথা বলা হয়েছে। সেখানে ইমরানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি তার ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়ার বিষয়টি পরীক্ষা করার অনুরোধ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দাবিতে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ইমরানের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সপ্তাহে তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রশাসনিক জটিলতা বা বাধা না দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
তৃতীয় দাবিতে মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী ইমরানের চিকিৎসা দ্রুত শুরু করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সাবেক অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের উদ্যোগে পাঠানো ওই চিঠিতে ইমরানের বয়স ৭৩ বছর এবং তিনি তিন বছরের বেশি সময় ধরে কারাগারে রয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ইমরানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মতভেদ থাকতে পারে। তবে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী একজন বন্দির চিকিৎসা নিশ্চিত করা কোনো রাজনৈতিক দাবি নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব।
এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও ইমরান খানের প্রতি মানবিক আচরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন ১৪ জন সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক।
২০২৩ সালের আগস্টে ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য ফাঁস ও রাষ্ট্রীয় উপহার বিক্রিসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা করা হয়েছে। ইমরান খান এবং তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এসব মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে।