রোববার (৫ জুলাই) তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সম্প্রতি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিশেষ দূত হিসেবে তেহরান সফর শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মেদভেদেভ। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের ওপর ইরানের প্রভাব বিশ্ব রাজনীতিতে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে শুধু হরমুজ নয়, লোহিত সাগরের প্রবেশমুখ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতেও বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, পরিস্থিতি সেই পর্যায়ে পৌঁছাবে না।
মেদভেদেভের দাবি, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে চালানো হয়েছে। তার মতে, তখনও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছিল এবং সে সময় তেহরান ওয়াশিংটনের জন্য তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি ছিল না। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দূর করতে রাশিয়া শুরু থেকেই আলোচনাভিত্তিক সমাধানের পক্ষে ছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক সমঝোতা নিয়ে তিনি বলেন, সংঘাতের তুলনায় সংলাপ সবসময় ইতিবাচক। তবে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, অর্থনৈতিক পুনর্গঠনসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী সমঝোতায় পৌঁছানো সহজ হবে না।
এ ছাড়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যে একটি যৌথ প্ল্যাটফর্ম গঠনের বিষয়েও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে জানান মেদভেদেভ। একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতায় রাশিয়া বরাবরই অবস্থান নিয়েছে এবং এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজন রয়েছে বলে জানান তিনি।