নিকলি জলজ স্বর্গ, কিশোরগঞ্জ
১. নিকলি: যেখানে জলে গড়ে উঠেছে জনপদ
বর্ষা নামলেই কিশোরগঞ্জের নিকলি রূপ নেয় এক জলজ স্বর্গে। বিস্তীর্ণ হাওরভূমি, হরেক জাতের মাছ, সবুজের মাঝে নীল জলের ছটা—এই ছবির মতো সৌন্দর্যে বিমোহিত হয় যে কেউ। ট্রলারে করে ভ্রমণ করতে করতে চোখে পড়ে দিগন্তজোড়া জলরাশি, হাওরের ভাসমান ঘরবাড়ি, পাখিদের উড়ে বেড়ানো।
বিশেষ করে বিকেলবেলায় সূর্যাস্তের রঙ জলে প্রতিফলিত হয়ে তৈরি করে রোমাঞ্চকর দৃশ্য—যা শুধুমাত্র দেখা নয়, অনুভব করার মতো এক অভিজ্ঞতা।
২.মিঠামইন: পানির ওপর সড়কে যাত্রা
নিকলি থেকে মিঠামইনের দিকে এগোলেই দেখা মেলে পানির বুক চিরে বানানো বাংলাদেশের এক আধুনিক বিস্ময়—অলওয়েদার সড়ক। দুই পাশে বিস্তীর্ণ হাওর, মাঝখানে ঝকঝকে পিচঢালা রাস্তা যেন কোনো জাদুকরী ছবি। গাড়ি নিয়ে এই রাস্তায় চলতে চলতে মনে হয়, আপনি এক জলভাসা রাজ্যে পৌঁছে গেছেন।
রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের নিজ এলাকা মিঠামইন ঘিরে রয়েছে আধুনিক অবকাঠামো ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব। উপজেলার বিভিন্ন স্থাপনা ও ঘাটে ঘাটে লুকিয়ে আছে একটি শান্ত-পরিচ্ছন্ন হাওর সংস্কৃতি।
৩. রসনাবিলাস: মাছ, ভর্তা ও গ্রামের স্বাদ
নিকলির স্থানীয় হোটেলগুলোতে দেশি টাটকা মাছ—টেংরা, চিংড়ি, বোয়াল, পুঁটি—মসলায় রান্না করে পরিবেশন করা হয় ভাত ও ভর্তার সাথে। গ্রামের স্বাদ ও আতিথেয়তায় এখানকার খাবার হয়ে ওঠে ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
৪.যেভাবে যাবেন:
ঢাকা থেকে ট্রেন/বাসে কিশোরগঞ্জ শহর (৩.৫–৪ ঘণ্টা)।
সেখান থেকে সিএনজি বা ভাড়া করা গাড়ি/ট্রলারে নিকলি।
নিকলি থেকে মিঠামইন সড়কপথে বা ট্রলারে যাওয়া যায় সহজেই।
ভ্রমণ টিপস:
বর্ষাকাল (জুলাই–সেপ্টেম্বর) হলো ভ্রমণের উপযুক্ত সময়।
ছাতা, রেইনকোট, পানিরোধী ব্যাগ ও অতিরিক্ত জামা কাপড় সঙ্গে নিন।
সপরিবারে গেলে নৌকা ও গেস্টহাউস আগে থেকে বুকিং করে নিন।
মোবাইল ও ক্যামেরা সুরক্ষায় জলরোধী কভার ব্যবহার করুন।
শেষ কথায়:
যারা শহরের কোলাহল ছেড়ে প্রকৃতির কোলে শান্তি খুঁজতে চান, তাদের জন্য নিকলি ও মিঠামইন হতে পারে এক নিখুঁত গন্তব্য। প্রকৃতি, পানি, আলো-ছায়া আর মানুষের প্রাণবন্ত জীবন—সব মিলে এ এক স্বপ্নের ভ্রমণ, যা হৃদয়ে গেঁথে থাকবে বহুদিন।