বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের অর্থনীতিতে নতুন মডেলের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। তার মতে, গত দেড় দশকে দেশের অর্থনীতি সবের জন্য সমান সুবিধা দিতে পারেনি, বরং একটি সীমিত গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণ করেছিল মূল অর্থনৈতিক ধারা।
সোমবার (২৭ অক্টোবর) রাজধানীতে ‘ইকোনমিক রিফর্ম সামিট’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আর্থিক খাতের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা অপরিহার্য। একই সঙ্গে তিনি সরকারি প্রশাসনের ক্ষমতা হ্রাস ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
সামিটে ব্যবসায়ী নেতারা বলেন, বর্তমান সময়ে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো বেসরকারি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। বিনিয়োগ বৃদ্ধি না হলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি সম্ভব নয়, যা দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা বাড়াবে। তাই আগামী সরকারের কাছে এই সমস্যা সমাধানকে অগ্রাধিকার হিসেবে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়া আর্থিক নীতি সহজ করা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করার তাগিদও উঠে আসে। বক্তারা জানান, মূলধন সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা, দুর্বল নীতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি দূর করার সময় এসেছে।
তাদের মতে, রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলে অর্থনীতির গতিশীলতা ত্বরান্বিত হবে না। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প ঋণ সংকটে রয়েছে, অপচয়মূলক প্রকল্পে অতিরিক্ত বিনিয়োগ এবং ব্যয়বহুল ঋণ অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এছাড়া জমির অতিরিক্ত দাম ও উচ্চ ভাড়া অনেক ব্যবসাকে অকার্যকর করে তুলেছে।
সার্বিকভাবে বক্তারা জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা উত্তরণে মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ব্যবস্থা, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আর্থিক নীতির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। নতুন মডেল প্রবর্তনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে সমান সুবিধা ও স্থিতিশীলতার দিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।