গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক উত্তরণ ও জনগণের মুক্তির জন্য ন্যূনতম জাতীয় ঐকমত্য এখন সময়ের দাবি। আমরা এমন এক রাষ্ট্রব্যবস্থা চাই, যেখানে প্রত্যেক নাগরিক নাগরিক মর্যাদা ও সমান অধিকারের ভিত্তিতে বাঁচবে। শ্রেণিগত শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে যে মুক্ত সমাজের স্বপ্ন মানবজাতি যুগে যুগে দেখেছে, সেই স্বপ্নকেই আমরা বাস্তবায়নের জন্য লড়াই করছি।
শুক্রবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে গণসংহতি আন্দোলনের তিন দিনব্যাপী পঞ্চম জাতীয় সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ’, ‘অধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ’ এবং ‘জনগণের বাংলাদেশ’ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে শুরু হওয়া এ সম্মেলনের উদ্বোধন করেন শহীদ উমর নুরুল আফসারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রানী এবং শহীদ মো. নাজমুল কাজীর স্ত্রী মারিয়া সুলতানা। সারা দেশ থেকে আগত কাউন্সিলর ও পর্যবেক্ষকদের অংশগ্রহণে সম্মেলন চলবে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত।
জোনায়েদ সাকি বলেন, “এই দেশে গণতন্ত্রের কথা বলা হয়, কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ শ্রমিক-কৃষক, খেটে খাওয়া মানুষের ন্যায্য হিস্যা এখনো নিশ্চিত হয়নি। দেশের সম্পদ ও সুযোগ এখনো মুষ্টিমেয় দখলদার শ্রেণির হাতে বন্দি। গণতন্ত্র কেবল ভোটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের কল্যাণ, ন্যায্য বণ্টন ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত না হলে সেই গণতন্ত্র টেকে না—বরং তা দ্রুত ফ্যাসিবাদের পথে যায়। বর্তমান শাসকগোষ্ঠী তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কেবল রাজনৈতিক পরিবর্তনের জন্য নয়, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির মৌলিক কাঠামো বদলের জন্য লড়াই করছি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের সংগ্রাম। কিন্তু ১৯৭২ সালের সংবিধান সেই আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি প্রতিফলিত করতে পারেনি। বরং তার ক্ষমতার কাঠামো স্বৈরশাসনকে প্রলম্বিত করেছে।”
গণসংহতি আন্দোলনের এই নেতা বলেন, “২০২৪ সালের আন্দোলন প্রমাণ করেছে, বর্তমান শাসন ও সাংবিধানিক কাঠামো দিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। মুক্তিযুদ্ধের প্রতিশ্রুতিগুলোকে নতুনভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তরুণ প্রজন্ম, শ্রমিক-কৃষক ও সাধারণ জনগণ আজ সেই নতুন মুক্তির বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে একতাবদ্ধ।”