জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম গোপালগঞ্জে দলের নেতা-কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে আবারও কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, জীবিত থাকলে গোপালগঞ্জের প্রতিটি গ্রামে কর্মসূচি পালন করবেন এবং 'মুজিববাদ' প্রতিরোধে আন্দোলন চালিয়ে যাবেন
একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি জানান, গোপালগঞ্জের প্রতি তাদের দলের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অটুট। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ গোপালগঞ্জের মানুষের ওপর রাজনৈতিক বৈষম্য চালিয়ে আসছে, মুক্তিযুদ্ধকে কলুষিত করেছে এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতি অবিচার করেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে এনসিপি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
তিনি দাবি করেন, এনসিপির কর্মসূচি ছিল শান্তিপূর্ণ, কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিকল্পিতভাবে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। তাঁর ভাষায়, আওয়ামী লীগ বারবার গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পরেও অনেকে 'রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ' আনতে চেয়েছিল, কিন্তু এটি আর রাজনৈতিক দল নয়—এটি একটি সন্ত্রাসবাদী সংগঠনে পরিণত হয়েছে।
নাহিদ অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ নেতাকর্মীরা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গোপালগঞ্জে জড়ো হয়েছিল। প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। তাঁর মতে, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সঠিক সময়ে ব্যবস্থা নিলে এই সহিংসতার ঘটনা ঘটত না।
তিনি আরও বলেন, গোপালগঞ্জে শান্তিপূর্ণ পথসভা শেষ করে ফেরার সময় আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আবারও হামলা চালায়। এ ঘটনায় চারজনের মৃত্যুর খবর পাওয়ার কথা জানান তিনি। তিনি প্রশাসন ও সরকারের প্রতি এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানান।
নাহিদের ভাষায়, শহীদদের রক্তের শপথ নিয়ে তারা গোপালগঞ্জে আবারও যাবেন এবং মুজিববাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন। তিনি জানান, ফরিদপুরে পরবর্তী পদযাত্রায় দেখা হবে এবং বাংলাদেশের মাটিতে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠা হতে দেওয়া হবে না।