আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তা শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো ও অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরির অভিযোগ উঠেছে। ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা তিনি গণ-অভ্যুত্থানের পর আচমকা অবস্থান বদলে নিজেকে ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী’ হিসেবে উপস্থাপন করেন। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার হওয়ার পর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ বাড়তে থাকে। এসব অনিয়ম প্রকাশ্যে আসায় তাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
রংপুরে দায়িত্ব পাওয়ার পর শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে প্রথম যে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে তা হলো ঘুষ দাবি করা। আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তালিকা থেকে একজন ব্যবসায়ীর নাম বাদ দেওয়ার শর্তে তিনি ১০ লাখ টাকা উৎকোচ চান—এমন অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর বিষয়টি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে, কারণ এতে উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তার সম্পৃক্ততা স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তদন্তে আরও উঠে আসে, ঘুষ সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে বাঁচতে তিনি থানায় গিয়ে বাদী পলাশ হাসানকে মারধর করেন এবং ডিউটিতে থাকা নারী কনস্টেবলের রাইফেল কেড়ে নিয়ে গুলি চালানোর চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাদীর মোবাইল ভেঙে প্রমাণ নষ্ট করারও চেষ্টা করেন। অফিসারদের দ্রুত উপস্থিতি পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়া থেকে রক্ষা করে। এই ঘটনার ভিডিও ও সাক্ষ্য একাধিক তদন্ত টিম যাচাই করে।
তদন্তে জড়িত ২৫ জন সাক্ষ্যের ভিত্তিতে শিবলী কায়সারের বিরুদ্ধে আরও বেশ কিছু অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—যেমন চাঁদাবাজি, ক্ষমতার অপব্যবহার, অসদাচরণ এবং শৃঙ্খলাভঙ্গ। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত অমিত বণিক নামের এক ব্যক্তি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অবৈধ অর্থ আদায়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করতেন। অভিযোগ আছে, অমিত বণিক অতীতেও সিনিয়র কর্মকর্তাদের প্রভাব ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ সংগ্রহ করতেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও জানা যায়—শিবলী কায়সার বিসিএস ২৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা হলেও চাকরিজীবনে তিনি দুইবার লঘুদণ্ড পেয়েছেন। আগের অপরাধগুলো উপেক্ষিত থাকলেও এবার তার বিরুদ্ধে উঠে আসা অভিযোগগুলো এতটাই সুস্পষ্ট যে তাকে দ্রুত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
তবে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে শিবলী কায়সার দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং একটি বিশেষ মহলের ষড়যন্ত্র। কিন্তু তদন্তকারী কর্মকর্তারা তার এসব ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য মনে করেননি।
ঘটনাটি এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভেতরে ক্ষমতার অপব্যবহার, রাজনৈতিক প্রভাব ও দুর্নীতির একটি বড় উদাহরণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন ঘটনার কঠোর বিচার না হলে পুলিশ বাহিনীর প্রতি জনগণের বিশ্বাস আরও কমে যাবে এবং ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।