মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে জ্বালানি ট্যাংকে আগুন ধরে যায় এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা যায়, ড্রোনের আঘাতে জ্বালানি ট্যাংকে বিস্ফোরণ ঘটার পর আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিমানবন্দরের বড় অংশে। এতে কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোগত ক্ষতি দেখা দেয়।
কুয়েতের সেনাবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল বাহিনীকে দীর্ঘ সময় কাজ করতে হয়েছে। আগুনের প্রভাবে বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যদিও এই ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় কুয়েতের আকাশসীমায় অন্তত ১৫টি ড্রোন শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। এর মধ্যে কয়েকটি ড্রোন সরাসরি বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান-সমর্থিত ড্রোন দিয়ে একাধিকবার কুয়েতের এই গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরকে টার্গেট করা হয়েছে। এর আগে এমন হামলায় কয়েকজন আহত হওয়ার পাশাপাশি যাত্রী টার্মিনালেও ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য বিমান হামলার সতর্কতা হিসেবে কুয়েতে বারবার সাইরেন বাজানো হচ্ছে। স্থানীয় সময় মধ্যরাতের পর একই রাতে দ্বিতীয়বার সাইরেন শোনা যায়, যা নতুন হামলার আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে তোলে।
শনিবারও একাধিক ড্রোন হামলার পর বিমানবন্দরে আগুন লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই আবার সতর্ক সংকেত দিয়ে সম্ভাব্য নতুন হামলার প্রস্তুতির কথা জানানো হয়।
কুয়েত সিটিতে এখন প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্ক সংকেত শোনা যাচ্ছে, যা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হচ্ছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণে বোঝা যাচ্ছে, এই সংঘাত ক্রমেই আরও বিস্তৃত ও তীব্র আকার ধারণ করছে।