ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরানের সম্পর্ক আরও টানাপোড়েনে পড়ায় গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আশপাশের অঞ্চলও বড় ধরনের অস্থিরতার মুখে পড়তে পারে।
দোহার এক ব্রিফিংয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যেকোনো নতুন সংঘাত পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই কাতার পরিস্থিতি শান্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে।
গত বছর ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলা এবং এর জবাবে কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর যে যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তাতে মধ্যস্থতার ভূমিকা রাখে কাতার। সেই সমঝোতা এখনো কার্যকর আছে।
এদিকে ইরানে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলছে ব্যাপক বিক্ষোভ। অর্থনৈতিক সংকট, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার চরম অবমূল্যায়ন এই আন্দোলনের মূল কারণ। এক ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯ লাখ ৯৪ হাজার ইরানি রিয়েল লেনদেন হচ্ছে, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে চাপে পড়েছে।
ডিসেম্বরের শেষ দিকে তেহরানের ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন অল্প সময়ের মধ্যে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর পাশাপাশি সেনাবাহিনী মোতায়েন করেছে। সংঘর্ষে প্রাণহানির খবরও পাওয়া যাচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র প্রকাশ্যে বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক বক্তব্যে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তাদের ওপর হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে জবাব দেওয়া হবে।