নাহিদ বলেন, ঐকমত্য কমিশনের দুই প্রস্তাবের মধ্যে দ্বিতীয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। প্রথম প্রস্তাবে কিছু সংশোধনের সুযোগ আছে, তবে সেটিই বাস্তবসম্মত। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রুত এ বিষয়ে আদেশ জারি করবেন। নাহিদ আরও বলেন, আগে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা হয়নি কারণ বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া পরিষ্কার ছিল না। এখন যদি সরকার প্রথম প্রস্তাব অনুযায়ী পদক্ষেপ নেয়, এনসিপি আনুষ্ঠানিকভাবে সনদে স্বাক্ষর করবে।
গণভোট ও সাংবিধানিক সংস্কার প্রসঙ্গে নাহিদ জানান, এনসিপি গণভোটের পক্ষে। তিনি বলেন, পরবর্তী সংসদই সাংবিধানিক সংস্কার সম্পন্ন করে নতুন সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব নেবে। বিএনপি ও জামায়াতের সঙ্গে সম্ভাব্য জোট নিয়ে নাহিদ বলেন, জোটে যাওয়ার বিষয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমরা কারও মুখাপেক্ষী নই, তবে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে সমঝোতার সুযোগ উন্মুক্ত রাখছি।
শাপলা প্রতীক না দেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে নাহিদ বলেন, কমিশন যদি এনসিপিকে শাপলা প্রতীক না দেয়, তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রশ্ন থেকেই যায়। একটি নবগঠিত দলের প্রতি অবিচার হলে নির্বাচন কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে জুলাই সনদ, সংস্কার ও জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়ার রোডম্যাপ দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন বর্তমানে জনগণের আস্থা হারাচ্ছে, তাই কমিশন পুনর্গঠন জরুরি।
দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক ফ্যাসিবাদের উত্থান নিয়ে নাহিদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ৫ আগস্টের পর দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। একদিকে স্বৈরতন্ত্রের ভয়, অন্যদিকে বিদেশি প্রভাব—সব মিলিয়ে জাতীয় ঐক্য এখন সময়ের দাবি। তিনি আরও বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর জনগণের অনেক প্রত্যাশা ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণে সরকার ও দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। মানুষ পরিবর্তন চায়, ভয় নয়।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখপাত্র সারজিস আলম, ডা. আতিক মুজাহিদ, আবু সাঈদ লিওন, সাদিয়া ফারজানা দিনা, আসাদুল্লাহ আল গালিব, আব্দুল মোনায়েমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।