রোববার (২৭ জুলাই) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে এই হিসাব জমা দেয়।
হিসাব জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, “যারা দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করেছে, তারা আবারও নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র করতে পারে। এই ষড়যন্ত্র মোকাবিলার দায়িত্ব সরকারের।”
তিনি বলেন, “মানুষ এখন একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করছে। বিগত ১৫ বছরে জনগণ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এবার তারা ভোট দেওয়ার সুযোগ চায়।”
রিজভী আরও অভিযোগ করেন, অতীতে আওয়ামী লীগ 'মেরুদণ্ডহীন' ব্যক্তিদের নির্বাচন কমিশনে বসিয়ে ভোটে জালিয়াতি করেছে। তার ভাষায়, “ফ্যাসিবাদী সরকার দেশের নির্বাচন ব্যবস্থাসহ প্রতিটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিয়েছে।”
এর আগে শনিবার (২৬ জুলাই) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের একান্ত সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আলম জানান, পরদিন বিএনপির প্রতিনিধি দল কমিশনে গিয়ে হিসাব জমা দেবে।
নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ৭ জুলাই জানিয়েছিলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোকে ২০২৪ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় তাদের চিঠি পাঠানো হয়নি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে আগের বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। তিন বছর পরপর হিসাব জমা না দিলে সংশ্লিষ্ট দলের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
বর্তমানে দেশে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সংখ্যা ৫১টি। আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত থাকায় এবার ৫০টি দলকে হিসাব জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।