প্রিন্স বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তা ও মুক্তবুদ্ধির কেন্দ্র, যা বাংলাদেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কীভাবে মুক্তচিন্তার বিরোধীরা জয়ী হয়? তার মতে, এই নির্বাচনে স্বৈরাচার ও রাজাকার একাকার হয়ে গেছে এবং ছাত্র-জনতার বিজয় কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্র তারা আগে থেকেই অনুমান করছিলেন, কিন্তু তা ব্যর্থ করতে না পারা তাদের ব্যর্থতা।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনা সুবিধাভোগী শিল্প মালিকদের কাছ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা নিচ্ছেন। তিনি ধারণা করছেন, ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের বিজয় এই টাকারই উত্তাপ, যা দেশের জনগণকে ভয় দেখাতে ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রিন্স অভিযোগ করেন, ছাত্রলীগ ও জামায়াতের মধ্যে সখ্যতা নতুন কিছু নয়, যা ১৯৮৬ সালেও এরশাদকে বৈধতা দিতে দেখা গিয়েছিল। তিনি বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় আসার লোভে তাদের নেতাদের ফাঁসি দেওয়া আওয়ামী লীগের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে।
তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে ঢাবিসহ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল কোনো আপস না করে কাজ করলেও, ছাত্রশিবির ছাত্রলীগের সঙ্গে মিশে কাজ করেছে। ৫ আগস্টের আগে যারা শিবিরের নেতা ছিলেন, তারা পরবর্তীতে ছাত্রলীগে যোগ দিয়েছিল এবং গণঅভ্যুত্থানের পর আবার শিবির নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রিন্স দাবি করেন, ছাত্রশিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভোটে জয়ী হয়নি, বরং নির্বাচন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে তাদের বিজয় হয়েছে। তিনি এই ফলাফলকে বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশের 'দক্ষিণপন্থিদের উত্থান' হিসেবে তুলে ধরে শেখ হাসিনার ক্ষমতা ফিরে আসার ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন।
আলোচনা সভায় ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিল চৌধুরী লিলি সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক হোসনে আরা নিলু সঞ্চালনা করেন। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ওয়ারেস আলী মামুন ও আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদসহ স্থানীয় বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে উত্তর জেলা মহিলা দল নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র্যালিও বের করে। র্যালিটি নতুন বাজারস্থ দলীয় কার্যালয় থেকে শুরু হয়ে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়, যেখানে বিভিন্ন উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেয়