বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের (আইএসডিবি) অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব মোস্তফা জুলফিকার হাসান বিষয়টি জানিয়েছেন।
চুক্তি অনুযায়ী, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রায় ১০০ কোটি মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য বাংলাদেশকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা এবং একই সঙ্গে এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করা। তিনি বলেন, দেশের পোশাকশিল্প বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রথম বড় সাফল্যের গল্প তৈরি করেছে। আগামী দিনের প্রবৃদ্ধিতে ইলেকট্রনিকস, ওষুধশিল্প, হালকা প্রকৌশল ও পরিবেশবান্ধব শিল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার আশা করছে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার এমন শিল্পকারখানা দেখতে চায়, যেখানে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে এমন কর্মসংস্থানের পরিবেশ গড়ে তোলার কথাও বলেন তিনি, যা মানুষের মর্যাদা ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।
সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির বিষয়েও অনুষ্ঠানে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর বিষয়টিও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো বর্তমানে নানা ধরনের জটিল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থার সংকট, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তার চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ক্রমবর্ধমান ব্যয় এসব দেশের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
তিনি বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা কোনো একটি দেশের পক্ষে একা সম্ভব নয়। এ কারণে বর্তমান সময়ে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
এ সময় বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। তার মতে, ভবিষ্যতের এই অংশীদারত্ব আরও উদ্ভাবনী, সময়োপযোগী ও ফলাফলনির্ভর হওয়া প্রয়োজন, যাতে তা বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের একটি নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকার ওপর সরকার আরও গুরুত্ব দিচ্ছে।
সূত্র: বাসস