বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, অভ্যুত্থানকারীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ওপর যারা অস্ত্রধারী হামলা চালিয়েছে, তারা যে বাহিনীর পোশাকই পরুক না কেন—সবাই আইনের চোখে অপরাধী। আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা যদি ছদ্মবেশে এমন হামলায় জড়িত থাকে, তবুও তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। ইতোমধ্যে এসব ঘটনায় মামলা হয়েছে, আর না হলে তা দায়ের করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হবে এবং বিচার করবে আদালত।
জাতীয় নাগরিক পার্টির সংসদ সদস্য আখতার হোসেন পুলিশের কিছু সদস্যের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে আইন অমান্য করে পুলিশের ভেতরের একটি অংশ নানা অপরাধে জড়িত ছিল এবং বিশেষ করে জুলাইয়ের ঘটনায় কেউ কেউ স্বেচ্ছায় সহিংসতায় অংশ নেয়। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজস্বভাবে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেবে কি না—সেটিও জানতে চান তিনি।
পাশাপাশি ‘পুলিশ হত্যা’ ইস্যু সামনে এনে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টার অভিযোগ নিয়েও সরকারের অবস্থান জানতে চান।
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে একটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যা সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে এবং সেটিকে আইনে পরিণত করার বিষয়ে সর্বসম্মতি রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু মহল যেভাবে নির্দিষ্ট ঘটনাগুলোর বিচার দাবি করছে, সেই যুক্তি অনুসরণ করলে অতীতের অনেক ঐতিহাসিক ঘটনাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তার মতে, গণ–অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত সহিংসতা ছিল এক ধরনের সংঘর্ষের বাস্তবতা, যেখানে আক্রমণকারীদের প্রতিরোধ করতে গিয়ে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
মন্ত্রী জানান, আন্দোলনের সময় যারা দমন-পীড়নে অংশ নিয়েছে এবং হামলা চালিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে জনতার প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। এই প্রেক্ষাপটে আন্দোলনকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে আইনগত কাঠামো তৈরি করেছে।