শনিবার (১১ জুলাই) রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত ‘মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ভূমিকা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার বলেন, ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম প্রতিরোধ গড়ে তোলে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা। তাদের সেই অবস্থানের পর দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে এগিয়ে আসেন। কিন্তু স্বাধীনতার পর ইতিহাসে এই অধ্যায় পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম, যেখানে লাখো মানুষ জীবন ও ত্যাগের মাধ্যমে স্বাধীনতার ভিত্তি রচনা করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যুদ্ধের সামরিক ও জনসম্পৃক্ত অনেক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আড়ালে থেকে গেছে।
১৯৭০ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্পিকার বলেন, তৎকালীন পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দীর্ঘদিনের ক্ষোভের জন্ম দিয়েছিল। উন্নয়ন ও সম্পদ বণ্টনে বৈষম্যের কারণে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং সেই প্রেক্ষাপটেই গণআন্দোলন শক্তিশালী হয়ে ওঠে।
স্বাধীনতার ঘোষণার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে ওঠে এবং ধীরে ধীরে তা পূর্ণাঙ্গ মুক্তিযুদ্ধে রূপ নেয়। এই প্রতিরোধে সামরিক ও বেসামরিক উভয় পর্যায়ের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল গুরুত্বপূর্ণ।
স্পিকার বলেন, যশোর, জয়দেবপুর, সৈয়দপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামে অবস্থানরত ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের ব্যাটালিয়নগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং স্থানীয় জনগণকে সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের একক অর্জন নয়; এটি ছিল সমগ্র বাঙালি জাতির অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম। ছাত্র, যুবক, কৃষক, শ্রমিক, সেনাসদস্যসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণেই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অবদানের কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্পিকার। পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সব অধ্যায় সঠিকভাবে তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।