কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধি আলি হাশেমের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে ইরান হরমুজ প্রণালিকে গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এর প্রভাব এখন শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কে সীমাবদ্ধ নেই; বৈশ্বিক পর্যায়েও এর প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
আলি হাশেম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অতীতের বিভিন্ন উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে ইরানকে হরমুজ প্রণালিকে এভাবে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। কিন্তু এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কমাতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, সেখানে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, সংঘাতের শুরুতে আন্তর্জাতিক মনোযোগ ছিল ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সক্রিয় ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ঘিরে। এখন সেই আলোচনার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও কার্যক্রম।
আলি হাশেমের মতে, সাম্প্রতিক সংঘাত আগের যেকোনো উত্তেজনার তুলনায় আলাদা মাত্রা তৈরি করেছে। এর ফলে সংঘাতের আগের এবং পরের আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আসতে পারে।
হরমুজ প্রণালির ভৌগোলিক অবস্থানকে ইরানের বড় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সামরিক বিশ্লেষকদের কেউ কেউ এ সক্ষমতাকে ইরানের ‘ভৌগোলিক পারমাণবিক বোমা’ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
এর মূল কারণ হলো, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের একটি প্রধান নৌপথ হরমুজ প্রণালির কার্যক্রমে ইরান বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এ পথকে নিয়ন্ত্রণ বা অচল করে দেওয়ার সম্ভাবনা বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে। ফলে বিশ্বের বড় শক্তিগুলোকেও ইরানের এই ভৌগোলিক সুবিধাকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হচ্ছে।