শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় অন্তত ২৭৪ শিশু নিহত হয়েছে। সেই হিসাবে যুদ্ধবিরতির পর প্রায় প্রতিদিনই একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
হারেৎজের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে এখন পর্যন্ত ২১ হাজারের বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। তাদের অধিকাংশই বিমান হামলার শিকার হয়েছে। এছাড়া স্নাইপার হামলা, ভবন ধস এবং বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষের আঘাতেও অনেক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় অনেক আহত শিশু সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে মারা গেছে। একই সঙ্গে অপুষ্টি, খাদ্য সংকট এবং বিভিন্ন রোগেও শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। তবে এসব মৃত্যুর অনেকগুলোই আনুষ্ঠানিক পরিসংখ্যানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হারেৎজ। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিপুল সংখ্যক মানুষ এখনো বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছে। বিদ্যুৎ, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে লাখো মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও তাঁবুতে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তীব্র গরম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং মশা ও ইঁদুরের উপদ্রবের কারণে সংক্রামক রোগের ঝুঁকিও বেড়েছে। বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ ও সংক্রমণে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে হারেৎজ জানায়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও একাধিকবার সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নতুন করে হতাহত হওয়ার ঘটনাও অব্যাহত রয়েছে।
সংঘাত শুরুর পর থেকে গাজার অবকাঠামোর বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে, যা মানবিক সংকটকে আরও গভীর করেছে।