রাজধানী বৈরুতসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়। ইসরায়েলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, খুব অল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ১০০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে এসব হামলায় বেসামরিক মানুষের ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
এদিকে হিজবুল্লাহ এই হামলাকে গুরুতর যুদ্ধাপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। সংগঠনটির দাবি, নিরীহ মানুষের ওপর এ ধরনের হামলা তাদের প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী করবে।
ইরানও পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্ত ভঙ্গ করেছে। একই সঙ্গে তারা বলছে, লেবাননকে চুক্তির বাইরে রাখার দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস ইরানের প্রস্তাবিত ১০ দফা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করায় সংকট আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ফলে যুদ্ধবিরতির পরও সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় পুরো অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি মূলত উত্তেজনা কমানোর একটি অস্থায়ী উদ্যোগ ছিল। এতে সরাসরি সামরিক সংঘর্ষ এড়িয়ে চলা, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা না করা এবং হরমুজ প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে চুক্তির ব্যাখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই মতবিরোধ ছিল। ইরান দাবি করে, লেবাননও এই সমঝোতার আওতায় পড়েছে। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তা অস্বীকার করে। এই ভিন্নমতের মধ্যেই লেবাননে বড় ধরনের হামলা হওয়ায় যুদ্ধবিরতির কার্যকারিতা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠছে।