শুক্রবার ( ৭ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
আরাগচি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল সামরিক বাহিনীর বিপরীতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের প্রস্তুতি, সক্ষমতা ও শক্তির প্রমাণ দিয়েছে। মুসলিম দেশগুলো ঐক্যবদ্ধ থাকলে বাইরের ক্ষতিকর শক্তির নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন সময় এসেছে অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখার এবং প্রকৃত ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও শক্তিশালী করার।
তার এই বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের কর্মকর্তারা আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিদেশি শক্তির পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলছেন।
এদিকে শুক্রবার মক্কায় তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান একটি যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির বিরুদ্ধে সশস্ত্র হামলা হলে সেটিকে তিন দেশের বিরুদ্ধেই হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এর আগে একই দিন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি বলেন, উপসাগরীয় দেশগুলোও ধীরে ধীরে বুঝতে পারছে যে নিজেদের অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব ওই অঞ্চলের দেশগুলোকেই নিতে হবে।
তিনি জানান, উপসাগরীয় দেশগুলোর নেতারা নতুন করে আঞ্চলিক সংলাপ শুরুর বিষয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দেখিয়েছেন। এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের নিয়ে বৈঠকের প্রস্তাবও রয়েছে। তবে এ ধরনের আলোচনা এগিয়ে নিতে হলে আগে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা জরুরি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও জ্বালানি অবকাঠামোয় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সমন্বিত হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। পাল্টা জবাবে ইরান পুরো অঞ্চলজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
পরে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় ১৮ জুন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর ফলে সরাসরি সামরিক সংঘাত বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা শুরুর পথ তৈরি হয়। তবে সমুদ্র নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতা নিয়ে মতবিরোধ দেখা দেওয়ায় পরবর্তী সময়ে সেই আলোচনা স্থবির হয়ে পড়ে।