গত সপ্তাহের সংসদীয় নির্বাচনে এল মানসুরির দল মধ্যপন্থি ‘অথেন্টিসিটি অ্যান্ড মডার্নিটি পার্টি’ (পিএএম) সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার পর তাকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দলটি প্রতিনিধি পরিষদের ৩৯৫টি আসনের মধ্যে ৯৭টি আসন পেয়েছে। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৯৮টি আসন হওয়ায় পিএএমকে এখন জোট গঠন করতে হবে।
রাজপ্রাসাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্বাচনের ফল ঘোষণার চার দিন পর এল মানসুরিকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বড় কাজ হবে প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জোট গঠন করা।
নিয়োগের পর টেলিভিশনে দেওয়া বক্তব্যে এল মানসুরি বলেন, মরক্কোর ইতিহাসে এই প্রথম কোনো নারী সরকার পরিচালনার দায়িত্ব পেলেন। বিষয়টিকে তিনি নিজের পাশাপাশি দেশের নারীদের জন্যও গর্বের বলে উল্লেখ করেন।
২০০৮ সালে বাদশাহর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ফুয়াদ আলি এল হিম্মা পিএএম প্রতিষ্ঠা করেন। দলটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (পিজেডি) এবং ফেডারেশন অব ডেমোক্র্যাটিক লেফটসহ কয়েকটি দল বিরোধী দলে থাকার কথা জানিয়েছে।
নতুন সরকারকে ২০৩০ সালের ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে কয়েক বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ওই বিশ্বকাপের আয়োজক মরক্কো, পর্তুগাল ও স্পেন।
এল মানসুরি আরব বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী। এর আগে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ২০২১ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন নাজলা বুদেন।
১৯৭৬ সালে মারাকেশে জন্ম নেওয়া এল মানসুরি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর শিক্ষার ডিপ্লোমা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অ্যাংলো-স্যাক্সন ব্যবসায়িক আইনে ডিপ্লোমা অর্জন করেন।
স্থানীয় সরকার দিয়ে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০০৯ সালে মারাকেশের মেয়র নির্বাচিত হয়ে শহরটির প্রথম নারী মেয়র হন তিনি। ২০২১ সালের নির্বাচনে আবারও পৌর পরিষদের নেতৃত্বে ফেরেন। পাশাপাশি একাধিক মেয়াদে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যও ছিলেন।
২০২১ সালের অক্টোবরে জাতীয় সরকারে যোগ দিয়ে জাতীয় ভূখণ্ড পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন, আবাসন ও নগর নীতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন এল মানসুরি। মন্ত্রী হিসেবে সরাসরি আবাসন সহায়তা কর্মসূচি, নগর পরিকল্পনা ও ভূখণ্ড উন্নয়নসংক্রান্ত সংস্কার এবং ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের মতো বিষয়ে কাজ করেন।
সূত্র: আল জাজিরা।