সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ভিয়েনায় আইএইএর সাধারণ সম্মেলন শুরু হয়। এর আগে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ইসলামি ও তাঁর প্রতিনিধিদল নিয়মিত ফ্লাইটে ভিয়েনার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তবে পরে তাঁরা তেহরানে ফিরে যান। ইরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের চাপেই অস্ট্রিয়া তাঁর ভিসা বাতিল করেছে।
অস্ট্রিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ইসলামির ওপর জাতিসংঘের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাঁকে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে অস্ট্রিয়া জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা কমিটির কাছে অব্যাহতি চেয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই আবেদনে আপত্তি জানালে তা অনুমোদন পায়নি।
ইরানের আইএইএবিষয়ক রাষ্ট্রদূত রেজা নাজাফি সম্মেলনের উদ্বোধনী অধিবেশনে এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তিনি এটিকে আইএইএর সদস্য হিসেবে ইরানের অধিকার লঙ্ঘন এবং সংস্থাটির কার্যক্রমের রাজনৈতিকীকরণ বলে মন্তব্য করেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেইও অস্ট্রিয়ার সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক বলে সমালোচনা করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ইসলামির অংশগ্রহণ আইএইএর কার্যক্রমকে ইরানের প্রচারের মঞ্চে পরিণত করতে পারে এবং পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরানের সঙ্গে সংস্থাটির সহযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক চাপও বেড়েছে। গত সপ্তাহে আইএইএর বোর্ড অব গভর্নরস ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে বিষয়টি পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়। আইএইএ জানিয়েছে, ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার পর থেকে দেশটির ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতসহ গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু উপকরণ যাচাই করতে তারা পর্যাপ্ত প্রবেশাধিকার পাচ্ছে না।
এবারের সম্মেলনে ইসলামির অনুপস্থিতি কয়েক বছরের মধ্যে ব্যতিক্রমী ঘটনা। সম্মেলনটি ১৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।