ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ আখ্যা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইরান। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন।
ইরানি রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, নিহত দুই শিশুর বয়স ছিল ৪ ও ১৬ বছর। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ও জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত ৬৮ জন।
ইরানি কর্মকর্তাদের দাবি, হামলার সময় ওই বাড়িতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। এটি ছিল সম্পূর্ণ বেসামরিক ও পারিবারিক আয়োজন। সেখানে হামলার ফলে নারী ও শিশুসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে বলে অভিযোগ তাদের।
রেড ক্রিসেন্ট বলছে, এ ঘটনার স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক তদন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) মাধ্যমে বিষয়টি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের অভিযোগ, একটি ব্যক্তিগত পারিবারিক অনুষ্ঠানে হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
হামলাটি ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক এলাকায় হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর কাছাকাছি অবস্থিত।
প্রাথমিকভাবে স্থানীয় এক কর্মকর্তা হামলায় পাঁচজন নিহত হওয়ার তথ্য দিলেও পরে ইরানি কর্তৃপক্ষ নিহতের সংখ্যা সংশোধন করে চারজন বলে জানায়।
তবে ইরানের দেওয়া ঘটনার বিবরণ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে. ডি. ভ্যান্স। বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালানোর অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেছেন, এ দাবি নিয়ে তিনি অত্যন্ত সন্দিহান।
যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য হামলার ঘটনায় বিয়ের অনুষ্ঠানকে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ স্বীকার করেনি। ভ্যান্স জানিয়েছেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু বানায় না।
হামলার প্রকৃত লক্ষ্য, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি এবং নিহতদের পরিচয় নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্বাধীন তদন্তের দাবি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে।