পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুন জেলার বেশন্ত্রি গ্রামের স্থানীয় ইমাম মাওলানা আব্দুল সামাদের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যান্য গ্রামবাসীর মতো তিনি তার পরিবারকেও দ্রুত বাড়ি খালি করার নির্দেশ দেন। তিনি তখন নফল নামাজ পড়ছিলেন। কিছুক্ষণ পর যখন তিনি বাড়ি ফিরে আসেন, তখন দেখতে পান আকস্মিক বন্যার পানির তোড়ে তার বাড়িসহ অনেকের বাড়িঘর সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে।
গ্রামটি খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বুন জেলার অন্তর্গত।
প্রাদেশিক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র বুন জেলায় নিহত হয়েছেন ১৮৪ জন। শংলা জেলা থেকে বাড়িঘর ধসের কারণে ৩৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া গিলগিত-বাল্টিস্তান ও পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরেও বন্যার প্রভাব দেখা দিয়েছে এবং আরও কিছু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।
প্রচণ্ড বৃষ্টিপাত ও মাটিধসের কারণে উদ্ধার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। এর আগে সামরিক হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযানের সময় বিধ্বস্ত হয়ে পাঁচজন ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার দুর্যোগপ্রবণ এলাকাগুলোতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সেনা ও স্থানীয় প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে। বিপর্যস্ত পরিবারদের জন্য চিকিৎসা ক্যাম্প, খাদ্য ও অন্যান্য ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এত বেশি যে স্থানীয় ক্ষমতা একা তা মোকাবিলা করতে পারছে না এবং আন্তর্জাতিক সাহায্য প্রয়োজন হতে পারে।
পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। কর্তৃপক্ষ এখন মূলত বেঁচে যাওয়া মানুষদের উদ্ধার, জরুরি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ হিসাব নির্ণয় করায় মনোনিবেশ করেছে।