ইসরায়েল কোনো আন্তর্জাতিক সমালোচনা তোয়াক্কা না করেই পশ্চিম তীরকে নিজেদের মানচিত্রে যুক্ত করার পদক্ষেপ চূড়ান্ত করছে। দেশটির অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোরিচ সংবাদ সম্মেলনে জানান, কয়েকটি এলাকা বাদ দিয়ে পশ্চিম তীরের বেশিরভাগ অংশকে ইসরায়েলের সার্বভৌম ভূখণ্ডে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তার দাবি, ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে মুছে দিতেই এই উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
১৯৬৭ সালের যুদ্ধে পশ্চিম তীর দখল করে নেয় ইসরায়েল। পরবর্তীতে ১৯৯০-এর দশকে অসলো চুক্তির মাধ্যমে অঞ্চলটিকে তিনভাগে ভাগ করা হয়—এরিয়া ‘এ’, ‘বি’ ও ‘সি’। পরিকল্পনা অনুযায়ী ধীরে ধীরে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের হাতে নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তরের কথা থাকলেও তা কার্যকর হয়নি। বর্তমানে এরিয়া ‘এ’ (১৮%) আংশিকভাবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের অধীনে থাকলেও ইসরায়েলি সেনারা প্রায়ই অভিযানের নামে প্রবেশ করে। এরিয়া ‘বি’ (২২%) বেসামরিক প্রশাসনে ফিলিস্তিনিদের হাতে থাকলেও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ ইসরায়েলের। আর এরিয়া ‘সি’, যা পশ্চিম তীরের ৬০ শতাংশ, পুরোপুরি ইসরায়েলের দখলে। এখানেই পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি অবৈধ বসতি স্থাপন করেছেন এবং অধিকাংশ প্রাকৃতিক সম্পদও এখানেই রয়েছে।
গত ২৩ জুলাই ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট পশ্চিম তীরকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের সাথে যুক্ত করার অনুমোদন দেয়। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ দল ও জোটের সহযোগী দলগুলো এ নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
অর্থমন্ত্রী স্মোরিচ বলেন, “জুডাইয়া ও সামারিয়ায় ইসরায়েলের সার্বভৌমত্ব প্রয়োগের সময় এসেছে। আমাদের ভূমিকে আর বিভক্ত করা হবে না এবং এর কেন্দ্রে কোনো সন্ত্রাসী রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দেয়া হবে না।”
জাতিসংঘ ও বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করেছে। তবে আন্তর্জাতিক সমালোচনা উপেক্ষা করেই পশ্চিম তীরকে নিজেদের মানচিত্রে যুক্ত করার পথে অটল রয়েছে ইসরায়েল।