বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক, সংসদীয় সহযোগিতা, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি, অবকাঠামো ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা হয়।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে চীন দীর্ঘদিন ধরে দেশের উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে প্রথম উদ্যোগ নেন এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে ভূমিকা রাখেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের প্রসঙ্গ তুলে স্পিকার বলেন, ওই সময়ে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন ও অর্থ পাচারের কারণে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশ-চীন সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন স্পিকার। পাশাপাশি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে প্রত্যাবাসনে চীনের সহযোগিতা চান তিনি।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সমৃদ্ধ করেছে।
চীন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার উল্লেখ করে তিনি বলেন, বড় প্রকল্পের পাশাপাশি ছোট ও মাঝারি প্রকল্পেও চীনা বিনিয়োগ বাড়ছে। বাংলাদেশকে এ অঞ্চলের উৎপাদনভিত্তিক কেন্দ্রে পরিণত করতে চীন সহযোগিতা করতে চায়। তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন লজিস্টিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যেতে পারে বলেও জানান তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন করিডোর, বিনিয়োগ, রোহিঙ্গা সংকট ও জ্বালানি নিয়েও মতবিনিময় হয়। স্পিকার বলেন, বাংলাদেশ ‘ওয়ান চায়না পলিসি’ সমর্থন করে এসেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। ভোলাসহ উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদনে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানান তিনি। ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের নির্বাহী পরিষদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার বিষয়েও চীনের সহযোগিতা চান স্পিকার।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা স্মরণ করেন ইয়াও ওয়েন। কায়সার কামাল তার সাম্প্রতিক ইউনান সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে চীনের আতিথেয়তা ও বাংলাদেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দেশটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন।
তিনি বলেন, দুই দেশের জনগণের উন্নয়নে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে আরও কাজ করতে চায়। গণতন্ত্র, জীবনমান, প্রযুক্তি, স্বাস্থ্যসেবা ও অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের সহযোগিতা চান তিনি।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ১৯৮০ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফর দুই দেশের ভবিষ্যৎ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তি তৈরি করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরও দুই দেশের সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।