নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, ভারতের পণ্যের ওপর পূর্বে আরোপিত ২৫ শতাংশ শুল্কের সাথে আরও ২৫ শতাংশ যুক্ত করে মোট ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। আগামী ২১ দিনের মধ্যে এ শুল্ক কার্যকর হবে। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য—রাশিয়াকে অর্থনৈতিকভাবে চাপের মধ্যে ফেলা এবং ভারতের 'দ্বিমুখী বাণিজ্যনীতি'র বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দেওয়া।
হোয়াইট হাউসের দাবি, ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তুলনামূলক কম দামে তেল কিনে তা পরিশোধন করে আন্তর্জাতিক বাজারে পুনঃরপ্তানি করছে। এর ফলে রাশিয়ার অর্থনীতি লাভবান হচ্ছে এবং ইউক্রেনে চলমান আগ্রাসনে অর্থায়নের সুযোগ পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, ভারতের এই ভূমিকা রাশিয়ার ওপর পশ্চিমা বিশ্বের আরোপিত নিষেধাজ্ঞাকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, “ভারতের শক্তি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বজায় রাখতে আন্তর্জাতিক বাজারের বিভিন্ন উৎস থেকে আমদানি করার অধিকার রয়েছে। ভারত কারও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।” ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তকে 'একপাক্ষিক ও অযৌক্তিক' বলেও অভিহিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে উত্তেজনার মধ্যে পড়বে। বিশেষ করে ভারতের কৃষিপণ্য, বস্ত্র ও প্রযুক্তি পণ্য রপ্তানিকারকদের জন্য এটি এক বড় ধাক্কা হতে চলেছে। পাশাপাশি, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও ভারতীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যেতে পারে, যা ভোক্তাদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের বলেন, “ভারত যদি রাশিয়ান তেল আমদানি অব্যাহত রাখে, তাহলে পরবর্তী ধাপে আরও কঠোর বাণিজ্যিক শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।”
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র স্টিল, অ্যালুমিনিয়াম এবং কপার পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা বৈশ্বিক বাজারে আলোড়ন তুলেছে। ভারতের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্পের 'চাপ সৃষ্টি কৌশল' হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।