ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, উভয় পক্ষ একমত হলেই যুদ্ধ তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ হবে এবং ইসরায়েল ধাপে ধাপে গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহার করবে। যুদ্ধকালীন কার্যক্রম স্থগিত থাকবে এবং নির্ধারিত সীমান্ত রেখা অপরিবর্তিত থাকবে। একই সঙ্গে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সকল বন্দি—বেঁচে থাকা বা মৃত—তাদের নিজ নিজ পরিবারের কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
পরিকল্পনায় বলা হয়েছে, গাজাকে সামরিকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে এবং সেখানে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর শাসন ভূমিকা থাকবে না। নতুন প্রশাসন পরিচালনা করবে একটি প্রবীণ ও অরাজনৈতিক প্রযুক্তিগত কমিটি, যা তত্ত্বাবধান করবে আন্তর্জাতিক “Peace Board”। এই বোর্ডে ট্রাম্পের পাশাপাশি সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারেরও অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ প্রস্তাবে গাজাকে কোনোভাবেই উপনিবেশীকরণ বা ইসরায়েলের সঙ্গে একীভূত করার বিষয় নেই। বরং গাজার অর্থনৈতিক পুনর্গঠনের জন্য বড় আকারের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ এবং একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অবকাঠামো খাতে অগ্রাধিকারভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্প চালু করার কথা বলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদারকি ও সীমান্তে শান্তি রক্ষায় আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করার ধারা এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, যারা অস্ত্র ত্যাগ করবে তাদের জন্য ক্ষমা ও নিরাপদ পুনর্বাসনের সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর ক্ষেত্রে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা হবে। দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য ইসরায়েল–ফিলিস্তিন শান্তি আলোচনার পথ খোলা রাখা এবং পুরো পরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মূল্যায়ন ও হালনাগাদ করার কথাও বলা হয়েছে।
তবে এ পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। হামাস এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। অনেক দেশ ও বিশ্লেষক টনি ব্লেয়ারের সম্পৃক্ততা এবং প্রস্তাবের কিছু অস্পষ্ট ধারা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের সম্ভাবনা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ফলে পরিকল্পনাটি আলোচনায় থাকলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় কাটছে না।