চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, গাজায় হামাসের হাতে থাকা ইসরায়েলি জিম্মিদের অর্ধেককে মুক্তি দেওয়া হবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েলও কিছু ফিলিস্তিনি বন্দিকে ছেড়ে দেবে। যদিও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, হামাসের ওপর “তীব্র চাপ” তৈরি হয়েছে।
হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাঈম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লিখেছেন, “গাজা যুদ্ধ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীদের দেওয়া নতুন প্রস্তাবে আমরা সম্মতি দিয়েছি।”
যুদ্ধবিরতির এই সময় গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি দীর্ঘমেয়াদি একটি রাজনৈতিক সমাধানের ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে। নতুন এই প্রস্তাবকে আগের মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের পরিকল্পনার সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। সেই প্রস্তাব আগেই গ্রহণ করেছিল ইসরায়েল।
গাজা নগরীর নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইসরায়েলি পরিকল্পনা দেশটির ভেতরে ও বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এর বিরোধিতা করে রোববার ইসরায়েলে হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নেন। পর্যবেক্ষকদের মতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটি অন্যতম বৃহৎ বিক্ষোভ।
বিক্ষোভকারীরা যুদ্ধের অবসান এবং গাজায় এখনো আটক থাকা প্রায় ৫০ জন ইসরায়েলি জিম্মির মুক্তির দাবিও জানান। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ধারণা, তাদের মধ্যে অন্তত ২৯ জন এখনো জীবিত আছেন।
এদিকে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের আশঙ্কায় গাজার পূর্বাঞ্চল ছেড়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি পশ্চিম ও দক্ষিণে আশ্রয় নিচ্ছেন। তবে সেই এলাকাতেও ইসরায়েলি সেনারা অব্যাহতভাবে গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় কিছুটা হলেও লাঘব হতে পারে। তবে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য আরও বড় পরিসরে কূটনৈতিক সমঝোতা জরুরি।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য গার্ডিয়ান, এপি