শুক্রবার ( ২৮ আগস্ট) রাতে কিয়েভের কাছের মিলা গ্রামের একটি সামরিক স্থাপনায় হামলার পর বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। এতে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিস্ফোরণের প্রভাবে আশপাশের আবাসিক ভবনসহ বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্যবহৃত একটি স্থাপনাও ক্ষতির মুখে পড়েছে। নিহতদের মধ্যে পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের প্রধানও রয়েছেন। উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করতে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সময় তিনি প্রাণ হারান বলে জানা গেছে।
জেলেনস্কির ভাষ্য, ওই স্থাপনায় গোলাবারুদ, মাইন, ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম রাখা ছিল। গত দুই মাসের মধ্যে অস্ত্র সংরক্ষণস্থলে হামলার পর বড় বিস্ফোরণের এটি দ্বিতীয় ঘটনা।
এর আগে ভিশনেভ শহরে রুশ হামলার পর অস্ত্রের মজুত এলাকায় বিস্ফোরণ ঘটে। ওই ঘটনায় ১০ জন নিহত হওয়ার পাশাপাশি শত শত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ফৌজদারি তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলেনস্কি। একই সঙ্গে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দেশের সব অস্ত্র সংরক্ষণকেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে।
এর মধ্যেই কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় টানা তৃতীয় দিনের মতো রুশ ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। শনিবারের হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী ও দুই বছরের একটি শিশু নিহত হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। হামলায় কয়েকটি আবাসিক ভবন ও গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের অভিযোগ, রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত করতেই রাশিয়া হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে।