মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অভিযানে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক অবকাঠামো, মাইন পাতা সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগব্যবস্থা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
হামলার পর ইরানের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, আহভাজ শহরের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বেসামরিক জিরোফট বিমানবন্দরেও হামলার খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এ ছাড়া চাবাহার, বান্দার আব্বাস এবং গুরুত্বপূর্ণ গ্যাসকেন্দ্র আসালুয়েহ এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে বিভিন্ন ইরানি সংবাদমাধ্যম। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের খবরে কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের কথা বলা হয়েছে।
মার্কিন হামলার পরই পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঘোষণা দেয় তেহরান। ইরান জানিয়েছে, জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও হতাহতের বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষের তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
এর মধ্যে ইরানের উপকূলীয় এলাকা সিরিকের কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এতে পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চার বছর বয়সী একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বার্তা সংস্থা মেহর।
তবে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ আহতের সংখ্যা ৬৮ বলে জানিয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নতুন করে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলার প্রভাব পড়ছে হরমুজ প্রণালিতেও। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথটি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই সোমবার প্রণালি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটে।
এর প্রভাব পড়ে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। মঙ্গলবার অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি চার ডলারের বেশি বেড়ে পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে যায়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলার পর হরমুজ প্রণালিতে আরও কঠোর অবরোধ আরোপ করা হবে।
এদিকে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে যদি পারস্য উপসাগর দিয়ে তেল রপ্তানি বন্ধ করতে বাধ্য করা হয়, তাহলে অন্য কোনো দেশকেও ওই অঞ্চল দিয়ে তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।
এর আগে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সময়ে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
নতুন এই হামলা-পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।