প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের বেশিরভাগই পুলিশ সদস্য, ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং প্রশাসনের কর্মকর্তা। সম্প্রতি হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে উদ্ধার করা বিস্ফোরকগুলো নওগাম থানায় রাখা হয়েছিল এবং সেগুলো পরীক্ষা করতে গিয়েই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের ৯২ বেস হাসপাতাল ও শের-ই-কাশ্মীর ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই উচ্চপর্যায়ের পুলিশ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নওগাম এলাকায় জইশ-ই-মোহাম্মদের নামে পোস্টার টানানোর ঘটনা থেকে শুরু হয় গোটা তল্লাশি অভিযান। ওই পোস্টারগুলোতে কাশ্মীরের নিরাপত্তা বাহিনী ও বহিরাগতদের বিরুদ্ধে বড় হামলার সতর্কবার্তা ছিল। সিসিটিভিতে একজন চিকিৎসক—আদিল আহমেদ রাথের—কে পোস্টার লাগাতে দেখা যাওয়ার পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
তার গ্রেফতারের পর সামনে আসে আরও বড় তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ফরিদাবাদের আল-ফালাহ মেডিকেল কলেজের আরেক চিকিৎসক মুজাম্মিল শাকিলের নাম বলেন। শাকিলের তথ্য অনুসারে জম্মু–কাশ্মীর ও হরিয়ানা পুলিশের যৌথ অভিযানে প্রায় ৩,০০০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট উদ্ধার হয়। এর একদিন পর একই কলেজের আরেক চিকিৎসক শাহীন সাঈদকেও আটক করে নিরাপত্তা বাহিনী।
কিন্তু গোটা নেটওয়ার্কের তথ্য মেলানোর আগেই ঘটে আরো একটি মর্মান্তিক ঘটনা—শাহীন সাঈদের গ্রেফতারের কয়েক ঘণ্টা পর নয়াদিল্লির লালকেল্লা সংলগ্ন ব্যস্ত সড়কে গাড়ি বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ১৩ জন।
ক্রমাগত এসব বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা এবং নওগামের ভয়াবহ বিস্ফোরণ তদন্তকারীদের সামনে একটি বিস্তৃত ও সংগঠিত জঙ্গি চক্রের ইঙ্গিত দিচ্ছে।