গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও দীর্ঘস্থায়ী করতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন একটি সংস্থা গঠন করেছে—“সিভিল-মিলিটারি কোঅর্ডিনেশন সেন্টার” (বেসামরিক-সামরিক সমন্বয় কেন্দ্র)। এই সংস্থার বেসামরিক প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও ইয়েমেনের সাবেক রাষ্ট্রদূত স্টিভেন ফ্যাগিন।
২০২২ সালে ফ্যাগিনকে ইয়েমেনে রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠিয়েছিল মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে দায়িত্ব পালনের পর তাঁকে এবার গাজায় নতুন এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হলো। শুক্রবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, গাজায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যই এই বিশেষ সমন্বয় সংস্থা গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে এবং যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার সব ধাপ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে স্টিভেন ফ্যাগিনের নেতৃত্বে এই কেন্দ্র কাজ করবে।”
দক্ষিণ ইসরায়েলের কিরইয়াত গাত শহরে এই কেন্দ্রের সদর দপ্তর উদ্বোধন করা হয়েছে সম্প্রতি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
সংস্থার সামরিক অংশের নেতৃত্বে আছেন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল প্যাট্রিক ফ্রাংক। ইতোমধ্যে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন স্তরের প্রায় দুই শতাধিক কর্মকর্তা এই কেন্দ্রের কাজে যুক্ত হয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গাজার যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে ২০ দফার একটি পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে গাজায় আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি, ইসরায়েলের কারাগারে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের অবমুক্তি, মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন প্রবেশ এবং ধাপে ধাপে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
তবে ১০ অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও অনেক শর্ত এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এই নতুন সংস্থা গঠন করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি, এএফপি