ইরানের তেলবাণিজ্য ও শিপিং নেটওয়ার্কের ওপর নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বুধবার (৩০ জুলাই) মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, ইরান ও রাশিয়ার তেল বিক্রয় নেটওয়ার্ক পরিচালনাকারী ১১৫টিরও বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের বিরুদ্ধে এ নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এটি ২০১৮ সালের পর ইরানকে লক্ষ্য করে সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা আলী শামখানির পুত্র মোহাম্মদ হোসেইন শামখানি। ট্রেজারি বিভাগ জানিয়েছে, শামখানি ব্যক্তিগত প্রভাব ও দুর্নীতির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি ও রুশ তেল বিক্রয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মুনাফা অর্জন করেছেন, যা ইরান সরকারের আর্থিক সহায়তায় ব্যবহৃত হচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ১৫টি শিপিং কোম্পানি, ৫২টি জাহাজ, ১২ জন ব্যক্তি এবং ৫৩টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যারা ১৭টি দেশের মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রচেষ্টায় যুক্ত ছিল। এসব দেশের মধ্যে পানামা, ইতালি এবং হংকং উল্লেখযোগ্য।
মার্কিন এক কর্মকর্তা জানান, “এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের পক্ষে তেল বিক্রি আরও কঠিন হয়ে পড়বে, তবে বৈশ্বিক তেলবাজারে বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা নেই।” তিনি আরও জানান, বছরের শুরুতে ইরানের দৈনিক তেল রপ্তানি ১৮ লাখ ব্যারেল থাকলেও এটি বর্তমানে ১২ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে এবং আরও কমানোর জন্য প্রচেষ্টা চলছে।
এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসব নিষেধাজ্ঞাকে ‘ইরানি জাতির প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুতার প্রকাশ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, “এটি ইরানের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণে একটি হীন চক্রান্ত।”
প্রসঙ্গত, ইউরোপীয় ইউনিয়নও চলতি জুলাই মাসে মোহাম্মদ হোসেইন শামখানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পদক্ষেপ ইরান ও রাশিয়া উভয়ের ওপরই প্রভাব ফেলবে, তবে এটি মূলত ইরানকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় সাম্প্রতিক মার্কিন হামলার পর দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক আলোচনা ফের শুরুর সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে গেছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান তার পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করলে যুক্তরাষ্ট্র তা কঠোরভাবে দমন করবে। তিনি বলেন, “ইরান থেকে খারাপ সংকেত আসছে। তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুনরায় শুরুর চেষ্টা হলে তা মুহূর্তেই ধ্বংস করা হবে।”