হরমুজ প্রণালী হচ্ছে আমদানি-রপ্তানির জন্য বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক শিপিং করিডর। এ রুট দিয়েই বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন করা হয়। হরমুজ প্রণালী দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ ও আমদানি করে থাকে। মধ্যপ্রাচ্য ছাড়াও পুরো বিশ্বের মধ্যে জ্বালানি সরবরাহের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুট ধরা হয় হরমুজ প্রণালীকে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি আমদানি-রপ্তানি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরান-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি সশস্ত্র হামলার জেরে ইতিমধ্যে বৈশ্বিক তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশের বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে সবধরনের জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়, তবে বাংলাদেশের জ্বালানি তেল আমদানি খাতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করছে বাংলাদেশের শিপিং কোম্পানিগুলো। যার ফলে চাপ পড়তে পারে সাধারণ ভোক্তাদের পকেটে। বাংলাদেশ ওশান গোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান আজম যে চৌধুরী বলেন, “হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে গেলে জাহাজ ঘুরপথে বিকল্প রুটে আসতে হবে। এতে স্বাভাবিকভাবেই পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাবে।”
তিনি আরো বলেন “এতে বাংলাদেশসহ যেসব দেশ পুরোপুরি তেল আমদানিনির্ভর, সেসব দেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”
তেল সংকট ছাড়াও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাাঁচামাল ও এলএনজি সংকটের কারণে দেশের জ্বালানি বাজারে প্রভাব পড়ার ব্যাপক আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়াও লোডশেডিংয়ের কারণে কলকারখানায় উৎপাদনে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং তেলনির্ভর প্রতিষ্ঠানের খরচ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে বাড়তে পারে পণ্য পরিবহনের খরচ ও সার্বিক মূল্যস্ফীতি, যার সকল বোঝা বহন করতে হবে দেশের সাধারণ জনগণকেই।