এই চক্রের সঙ্গে এসআই নাজিম, এসআই রেনুকা ও এসআই জয়নাল জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। লেন্স এশিয়া বাংলার একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন ভয়াবহ তথ্য উঠে এসেছে
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৭ এপ্রিল মাছিমপুর গ্রামের ফারুক মিয়ার বাসায় হানা দেয় এসআই নাজিম, রেনুকা ও জয়নালের নেতৃত্বে একটি দল। ফারুকের স্ত্রী রানু আক্তারের দাবি, পুলিশ ঘরে তল্লাশি চালিয়ে কোনো মাদক পায়নি। তবে তারা জোরপূর্বক তার স্বামীকে গ্রেপ্তার করে এবং ঘর থেকে নগদ ১ লক্ষ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা নিয়ে যায়। পরে রাতে থানায় নিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে আরও ১ লক্ষ টাকা আদায় করা হয়। অথচ মামলার এজাহারে জব্দ দেখানো হয়েছে মাত্র ১ লক্ষ ৭ হাজার টাকা। বাকি টাকার কোনো হদিস নেই। রানু আক্তার আরও বলেন, “উদ্ধারকৃত ৩৫০পিস ইয়াবা ও হেরোইন আমার বাসা থেকে উদ্ধার হয়নি, এগুলো আমার স্বামীর অন্য একটি ভাড়াকৃত বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের নামে থানায় নিয়ে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করে দেয়।”
অন্যদিকে বড় মাদক চালান গায়েব করে ছোট মামলার নাটক সাজানোর অভিযোগও রয়েছে। ইছাখালীর আউয়াল নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ হেরোইন ও ইয়াবা উদ্ধার দেখানো হলেও ৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে তাকে মাত্র ৫ পিস ইয়াবা দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। এমনকি তাকে থানায় না এনে বাইরে থেকেই সরাসরি চালান দেওয়ার মতো বিধি-বহির্ভূত কাজের অভিযোগও উঠেছে।
এছাড়া লিনা পেপার মিল চুরির প্রধান হোতা আইবুরের সঙ্গে এসআই নাজিমের সখ্যতার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে আইবুরের সঙ্গে পুলিশের গোপন ঘনিষ্ঠতা স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্র ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, রূপগঞ্জের প্রায় ৩০০টি মাদক স্পটের মধ্যে অন্তত ১৫–২০টি স্পট সরাসরি এসআই নাজিম ও জয়নাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। স্পটভেদে মাসে ৫ হাজার থেকে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে অভিযোগ রয়েছে, এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে বিপুল অঙ্কের টাকা আদায় করে আসছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে মুড়াপাড়া এলাকার ওয়াসিম নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে আটকের ঘটনায় এসআই নাজিমের সংশ্লিষ্টতা থাকলেও নথিপত্রে কৌশলে তার নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা করা হয়েছে এসআই মনিরুল ইসলামকে। এক ভুক্তভোগীর অভিযোগ, মাদক সিন্ডিকেটে জড়িত না থাকা এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে মাসোহারা চায় এসআই নাজিম। পরে মাসোহারা না পেয়ে ওই মামলায় তিন ব্যক্তিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ‘পলাতক আসামি’ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই নাজিম বলেন, “নিউজ করে আমার ক্ষতি কইরেন না। আমি থানা ছেড়ে চলে যাব, আমি তো আপনাদেরই ভাই। আমার দিকে তাকিয়ে একটু দেখেন প্লিজ।”
এসআই রেনুকা ফারুক মিয়ার স্ত্রী রানু আক্তারের গ্রেপ্তার ও টাকা লুটের ঘটনা অস্বীকার করলেও জব্দ তালিকায় নিজের স্বাক্ষর দেখে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
নারায়ণগঞ্জ ‘গ’ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. মেহেদী ইসলাম বলেন, “এই অভিযোগগুলো এখন পর্যন্ত আমার কাছে আসেনি। তবে পুলিশের পোশাকে ঘুস বা মাদক কারসাজির কোনো সুযোগ নেই। যদি জড়িত থাকে তবে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, পুলিশই যখন মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকিতে পড়ে। তারা দ্রুত উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।