তরুণদের আঁকা সেই গ্রাফিতিগুলো ছিল গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও নতুন সূচনার বার্তা। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই সেগুলো ঢেকে গেছে মনোনয়নপ্রত্যাশী রাজনীতিবিদদের প্রচারণা সামগ্রীতে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে থেকে শুরু করে মেট্রোরেলের পিলার, এমনকি স্কুলের দেয়াল পর্যন্ত—সব জায়গাতেই এখন আত্মপ্রচারণার প্রতিযোগিতা।
বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন, খেলাফত মজলিস কিংবা রিপাবলিকান পার্টি—রাজধানী দখলের এই পোস্টারযুদ্ধে কেউ পিছিয়ে নেই। নেতাদের অনুকম্পা পেতে শত শত পোস্টার টাঙিয়ে সাজানো হচ্ছে সড়ক, মোড় ও ফুটপাত। ফলে শহর হারাচ্ছে তার রঙ, ইতিহাস ও সৌন্দর্য।
শিক্ষার্থীরা হতাশা প্রকাশ করে বলেন, “আমরা যেই পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলাম, রাজনীতিবিদরা তা বুঝতে পারছেন না। তারা এখন কেবল নিজেদের মুখ দেখাতেই ব্যস্ত।”
নগর পরিকল্পনাবিদ স্থপতি ইকবাল হাবিব বলেন, “রাজনৈতিক প্রচারণার নামে শহরকে এইভাবে দখল করা একধরনের ভিজ্যুয়াল দূষণ। সিটি করপোরেশনকে এখনই আইন প্রয়োগ করে এটি বন্ধ করতে হবে।”
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, “পোস্টার-ফেস্টুনে শহরের পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে এসব সরানোর নির্দেশ দেওয়া হবে।”
নাগরিকরা বলছেন, পুরনো ধাঁচের প্রচারণা নয়—নতুন বাংলাদেশে দরকার নতুন রাজনীতি, যেখানে সৃজনশীলতা ও দায়িত্ববোধ থাকবে, পোস্টার নয়, থাকবে প্রতিশ্রুতির সৌন্দর্য।