গত ২৫ সেপ্টেম্বর গকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ৯ অক্টোবর নবনির্বাচিত সদস্যরা শপথ নেন। দীর্ঘ পাঁচ বছর পর গঠিত এই ছাত্র সংসদ ঘিরে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা ছিল বেশি। তারা আশা করেছিলেন, একাডেমিক পরিবেশ উন্নয়ন, গবেষণা কার্যক্রমে সহায়তা, সেমিনার–কর্মশালা আয়োজন, লাইব্রেরি ও ল্যাব সুবিধা বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষা বিষয়ে দিকনির্দেশনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে গকসু। তবে চার মাসেও এসব বিষয়ে কোনো লিখিত কর্মপরিকল্পনা বা কার্যক্রম দেখা যায়নি।
গকসুর কার্যক্রম নিয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজির বিভাগের ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, "আমরা ছাত্র সংসদ বলতে বুঝতাম ক্লাস ও পরীক্ষার মান, কোর্স কনটেন্ট, গবেষণার সুযোগ, স্কলারশিপ বা উচ্চশিক্ষা বিষয়ক গাইডলাইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের জন্য সংসদ বড় ভূমিকা পালন করে কিন্তু আমাদের গকসুর এরকম কোন কার্যক্রম নেই যা চরম হতাশাজনক। নিয়মিত শিক্ষার্থী–প্রতিনিধি বৈঠক, বিভাগভিত্তিক একাডেমিক সমস্যা চিহ্নিতকরণ কিংবা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয়ের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না।"
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে গকসু চাইলেই চার মাসে কোন একটা প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে পারতো এতদিনে, কিন্তু তারা এমন কিছু চেয়েছে কি না সন্দেহ। চেয়ে থাকলে এতদিনে বাকী কাজগুলোর মতো এটাও দৃশ্যমান হতো। নির্বাচনি আলাপনে সকলেই বলেছিলো, যেই জিতুক আমরা একসাথে কাজ করবো। কিন্তু গত চারমাসে তারা কি কখনো একসাথে বসেছিলো? তারা তাদের নির্বাচনি ইশতাহারে শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনেক পরিকল্পনা করেছিল, বলেছিলো যেই জিতুক, সমন্বয় করে সব কাজ করা হবে। তা কি হয়েছে?”
এ প্রসঙ্গে ছাত্র সংসদের সহ-সভাপতি ইয়াছিন আল মৃদুল দেওয়ান বলেন, "নির্বাচিত হওয়ার পর প্রায় দুই মাস কেটে গেছে বিভিন্ন আন্দোলনে। এই কারণে শিক্ষার মান উন্নয়নে কোনো কর্মসূচি নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাই আমি এটিকে গকসুর ব্যর্থতা হিসেবে দেখতে চাই না। আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে। তবে কিছু বিভাগে শিক্ষক সংকট সমাধানে প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। সামনে শিক্ষার মানোন্নয়নে কর্মসূচি গ্রহণের পরিকল্পনা আছে আমাদের। শীঘ্রই একটা জব ফেয়ার আয়োজন করার আলোচনা চলমান আছে।"