বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ভুয়া খবরের চেয়েও ভুল বা বিভ্রান্তিকর গোয়েন্দা তথ্য বেশি বিপজ্জনক। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধকে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করে আরাঘচি বলেন, অতীতের সেই ভুলের পরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে একই ধরনের ভুল পথে এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তিনি আরও জানান, ইরানকে ঘিরে মার্কিন নৌ অবরোধ অব্যাহত রাখা হবে। এই অবরোধকে তিনি ‘ইস্পাতের দেয়াল’ হিসেবেও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, হরমুজ পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। দেশটির কার্যকর নৌবাহিনী বা বিমানবাহিনী নেই বলেও দাবি করেন তিনি। এমনকি ইরানের অবশিষ্ট সেনাসদস্যদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
এ ছাড়া ট্রাম্প দাবি করেন, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আগের তুলনায় ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। বাহিনীর সদস্যদের অনেকে পালিয়ে যাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই উত্তেজনা চলছে। ব্যর্থ হয়ে যাওয়া শান্তি আলোচনার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি দুই পক্ষের দর-কষাকষির অন্যতম বিষয় ছিল। পরবর্তীতেও উভয় দেশ বিভিন্ন সময়ে প্রণালিটির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি করেছে।
চলমান কূটনৈতিক অচলাবস্থা ও সংঘাতের প্রভাবে হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো। ফলে নৌপথটি ঘিরে যে কোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
সোর্স: সিএনএন