ইয়েমেনের পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, হামলার শিকার জাহাজটির নাম ‘তিহামাহ’। মিশরের মালিকানাধীন এই জাহাজে থাকা তিন পাকিস্তানি ও একজন ইন্দোনেশীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। হামলার পর জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন ক্রুরা। পরে উদ্ধারকারী দল সেখানে পৌঁছালে ফের হামলা চালানো হয় বলে ইয়েমেনের কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। এ সময় হুতি-বিরোধী ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের দুই সদস্য নিহত হন।
হামলায় আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে জাহাজটির সাতজন ক্রু, ইয়েমেনের কোস্ট গার্ডের দুই সদস্য এবং ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সেসের একজন সদস্য রয়েছেন। ব্রিটিশ নৌবাহিনী-সংশ্লিষ্ট ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনসও বাব এল-মান্দেব এলাকায় একটি জাহাজ অজ্ঞাত প্রজেক্টাইলের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর জানিয়েছে।
হুতিরা দাবি করেছে, তারা সৌদি সামরিক সরঞ্জাম বহনকারী একটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। তবে জাহাজটির নাম বা হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য ও জাহাজটির ছবি বিশ্লেষণ করে হামলার শিকার জাহাজটি ‘তিহামাহ’ বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
এদিকে একই দিনে ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরের দিকে যাওয়া একটি কনটেইনার জাহাজে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলার খবরও সামনে এসেছে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ দুটি সমুদ্রপথে একদিনে পৃথক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে।
লোহিত সাগর দিয়ে এশিয়া, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে বিপুল পরিমাণ পণ্য পরিবহন হয়। এই নৌপথে হামলা ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।