গত কয়েক মাস ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হচ্ছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় আহমাদিনেজাদ নিহত হয়েছেন। তবে সেই গুঞ্জন উড়িয়ে দিয়ে খামেনির শেষ বিদায়ের শোকমিছিলে দেহরক্ষীদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের ভিড়ে হেঁটে যেতে দেখা যায় তাকে। তার উপস্থিতির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করে ইরানের ঘনিষ্ঠ টেলিগ্রাম চ্যানেল দলাত-ই বাহার। পরে ইরানি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমও বিষয়টি নিশ্চিত করে।
দীর্ঘদিন পর এমন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আয়োজনে তার উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের ক্ষমতার ভারসাম্যে যে পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে, সেই প্রেক্ষাপটে আহমাদিনেজাদের প্রকাশ্যে আসা তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে। যদিও একসময় খামেনির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত থাকলেও পরবর্তীতে দুজনের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নেয়।
২০০৫ সালে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর প্রথম মেয়াদে খামেনির পূর্ণ সমর্থন পেয়েছিলেন আহমাদিনেজাদ। ২০০৯ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের সময়ও সর্বোচ্চ নেতা প্রকাশ্যে তার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু ২০১০ সালে তৎকালীন গোয়েন্দামন্ত্রী হেইদার মোসলেহিকে অপসারণকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বড় ধরনের বিরোধ সৃষ্টি হয়। আহমাদিনেজাদের সিদ্ধান্ত বাতিল করে মোসলেহিকে পুনর্বহাল করেন খামেনি। এর প্রতিবাদে টানা ১১ দিন সরকারি দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখেন আহমাদিনেজাদ, যা সে সময় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।
ওই ঘটনার পর থেকেই ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্র থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যান তিনি। পরে গার্ডিয়ান কাউন্সিল ২০১৭, ২০২১ ও ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তার প্রার্থিতা বাতিল করে।
সূত্র: ইরান ওয়্যার, হাবারলার।