বৃহস্পতিবার (২২ জুলাই) ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি করা মোট পণ্যের প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশই নতুন শুল্কের আওতায় আসবে। তবে তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্যসহ নির্দিষ্ট কয়েকটি খাতকে এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ৩০১ ধারার অধীনে নতুন শুল্ক আরোপের আইনি ভিত্তি আগের ব্যবস্থার তুলনায় বেশি শক্তিশালী। সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন ১৫০ দিনের জন্য ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্ক চালু করেছিল। সেই শুল্ক শুক্রবার রাত ১২টা ১ মিনিটে (ইডিটি) শেষ হওয়ার পরপরই নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ২৮ জুলাই রাত ১২টা ১ মিনিট পর্যন্ত পরিবহনরত পণ্য নতুন শুল্কের আওতামুক্ত থাকবে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছে। এবার বাণিজ্য অংশীদারদেরও একই ধরনের মানদণ্ড অনুসরণে উৎসাহিত করা হচ্ছে। তার মতে, নতুন এই নীতি মানবাধিকার রক্ষা, অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধ এবং শ্রমিকদের স্বার্থ সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের পণ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট ফেভারড নেশন’ শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ হতে পারে। অন্যদিকে চীনসহ আরও ৩৮টি দেশের পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের বাণিজ্য আইনজীবী টিম ব্রাইটবিলের মতে, নতুন শুল্ক ব্যবস্থা বিভিন্ন বাণিজ্য চুক্তির আওতায় বিদ্যমান শুল্ক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এটি মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১০ শতাংশ শুল্কের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এই ব্যাখ্যার সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। তিনি বলেন, নতুন শুল্ক শুধু আগের ব্যবস্থার পরিবর্তে আনা হয়নি; বরং জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখার অংশ হিসেবেও এটি কার্যকর করা হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কিছু দেশ এ বিষয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অন্যায্য বাণিজ্যিক সুবিধা পাচ্ছে।
নতুন শুল্কের আওতার বাইরে থাকছে তেল ও গ্যাস, সার এবং কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য। এ ছাড়া গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো যেসব পণ্যে জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আগে থেকেই ২৩২ ধারার অধীনে শুল্ক রয়েছে, সেগুলোকেও নতুন ব্যবস্থার বাইরে রাখা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি বা ইউএসএমসিএর শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি পাবে। উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থার অংশ হওয়ায় এবং এসব পণ্যে উল্লেখযোগ্য মার্কিন উপাদান থাকায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
৩০১ ধারার অধীনে চূড়ান্ত করা নতুন শুল্ক কাঠামোটি ১ জুন প্রস্তাবিত জোরপূর্বক শ্রমবিরোধী শুল্কনীতির ভিত্তিতেই তৈরি হয়েছে। যেসব দেশে জোরপূর্বক শ্রম ঠেকাতে কার্যকর আইন রয়েছে, সেসব দেশের পণ্যে ১০ শতাংশ এবং আইন বা তার প্রয়োগ দুর্বল এমন দেশগুলোর পণ্যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ভারতসহ কয়েকটি দেশ আইন সংশোধন ও নতুন পদক্ষেপ নেওয়ায় তাদের পণ্যও ১০ শতাংশ শুল্কের আওতায় এসেছে।
এ ছাড়া গণশুনানির পর পিগ আয়রন, নির্দিষ্ট চিনিজাত পণ্য, পশু ও বীজজাত সামগ্রী এবং কিছু রাসায়নিক পণ্যকে নতুন শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স