নিউইয়র্কে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) সৌদি আরবের সঙ্গে যৌথভাবে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে ফ্রান্সসহ ছয় দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং অন্যান্য দেশগুলোর নেতা। এর আগে যুক্তরাজ্যও আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ম্যাকরন বলেন, “সময়ের দাবি অনুযায়ী আমরা একত্রিত হয়েছি। দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বজায় রাখার দায়িত্ব আমাদের।” তিনি ঘোষণা করেন, ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিচ্ছে।
এখন পর্যন্ত জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে প্রায় ১৪৭টি দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই স্বীকৃতি ইসরায়েলের ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করেছে। গাজায় ইসরায়েলের হামলায় ৬৫ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং নগরীর বড় অংশ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
গত বছর স্পেন, নরওয়ে ও আয়ারল্যান্ডও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। গাজায় যুদ্ধের কারণে স্পেন ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। সম্মেলনে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, “যখন জনগণ গণহত্যার শিকার হয়, তখন দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান কার্যকর হয় না। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবিক দায়বদ্ধতার কারণে এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করতে হবে।”
ম্যাকরন গাজার পুনর্গঠন পরিকল্পনাও উপস্থাপন করেন। এতে নতুন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রস্তাব এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) মোতায়েনের কথা বলা হয়েছে, যা গাজায় শাসনভার গ্রহণে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করবে।
ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় সরাসরি অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে ভিডিওবার্তায় তিনি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “যেসব দেশ এখনো স্বীকৃতি দেয়নি, তাদেরকেও আহ্বান জানাই। এছাড়া ফিলিস্তিনের পূর্ণ সদস্যপদ নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘে দাবি জানাচ্ছি।”
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই সম্মেলন বর্জন করে। ইসরায়েলের জাতিসংঘ দূত ড্যানি ড্যানন বৈঠকটিকে ‘সার্কাস’ আখ্যা দিয়েছেন। যদিও অধিকাংশ দেশ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবুও নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া পূর্ণ সদস্যপদ সম্ভব নয়। যুক্তরাষ্ট্র ভেটো প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনকে পূর্ণ সদস্যপদ পাওয়ার পথ রুদ্ধ করছে।
সূত্র: আল জাজিরা