রোববার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রেখে বিক্ষোভ দমনের অভিযান চলছে। ফলে প্রকৃত পরিস্থিতি পুরোপুরি বাইরে আসছে না। তবু যেসব ভিডিও ও তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, তাতে সহিংসতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠছে।
দক্ষিণ তেহরানের কাহরিজাক এলাকা থেকে পাওয়া একটি ভিডিওতে রাস্তায় পড়ে থাকা ও বডি ব্যাগে রাখা একাধিক মরদেহ দেখা গেছে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সেখানে কয়েক ডজন মানুষের মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই ধরনের দৃশ্য দেখা গেছে একটি শিল্প কারখানার কাছেও।
এর আগে ফারদিস, কারাজ এবং পূর্ব তেহরানের আলঘাদির হাসপাতাল থেকেও মরদেহের ভিডিও পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে শুধু রাজধানী নয়, যেসব এলাকায় বিক্ষোভ হচ্ছে সেখানেই নিরাপত্তা বাহিনী প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করছে।
সংবাদমাধ্যমটি জানায়, প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হচ্ছে গত ৪৮ ঘণ্টায় প্রায় দুই হাজার মানুষ প্রাণ হারাতে পারেন। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাশতের এক চিকিৎসক জানিয়েছেন, শুধু একটি হাসপাতালেই অন্তত ৭০টি মৃতদেহ আনা হয়েছে।
সূত্রগুলো বলছে, তেহরানের বিভিন্ন অংশ ও কারাজের ফারদিস এলাকায় সংঘর্ষ সবচেয়ে তীব্র আকার নিয়েছে। অন্য শহরগুলো থেকেও বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালানোর খবর আসছে।
সাধারণ ইন্টারনেট বন্ধ থাকলেও কিছু মানুষ ইলন মাস্কের স্টারলিংক স্যাটেলাইট সংযোগ ব্যবহার করে ভিডিও পাঠাতে পারছেন। এসব ফুটেজে হত্যাকাণ্ডের নানা দৃশ্য ধরা পড়েছে।
এত দমন-পীড়নের মধ্যেও শনিবার রাত পর্যন্ত বহু মানুষ রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।